1. bangalirbarta@gmail.com : বাঙ্গালীর বার্তা : বাঙ্গালীর বার্তা
  2. info@www.bangalirbarta.com : বাঙ্গালীর বার্তা :
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘সতর্ক বার্তা’ অবশেষে ৭ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পেলেন অপহৃত সেই ৬ কৃষক প্রিন্টিং প্রেসকে নির্বাচনি পোস্টার না ছাপার নির্দেশ ইসি’র শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৩০ রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট মেয়েকে লেখা শেষ বার্তা পাঠিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা ঢাকা-১২: তিন সাইফুলে বিভ্রান্ত ভোটাররা, কে হাসবে বিজয়ের হাসি! মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরি, মার্কিন-ইরান সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ও তারেক রহমানের সম্মতিতে এই হামলা: নাহিদ ইসলাম ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে তাহলে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ কি টিকবে?

বিএনপি’র জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে জামায়াত জোট

তৌফিক ই ইলাহি বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

বাঙ্গালীর বার্তা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার রেখা। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর ভোটের মাঠে কার্যকর প্রতিযোগিতা ফিরছে- এমনটিই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জরিপ, জনপ্রিয়তা এবং অতীত নির্বাচনের ফলে বিএনপি অনেক এগিয়ে থাকলেও, ৫ আগস্টপরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুনর্গঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট বিএনপির জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। ৫১ রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে লড়াইটা বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জাতীয় পার্টি ফ্যাক্টর হয়ে ভোটের সমীকরণ কিছুটা পাল্টে দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন দল ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। নির্বাচনী প্রচার এখনও শুরু না হলেও মাঠের লড়াইয়ে দুটি জোটের প্রতিদ্বন্দি¦তাও অনেকটা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অর্ধশতাধিক দলের মধ্যে ১৩ দল ৫ আগস্টপরবর্তী নিবন্ধন পেয়েছে। তাই তাদের ভোটের মাঠের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। বাকি ৩৮ দলের মধ্যে কিছু দল অতীতের নির্বাচনগুলোয় কখনও কখনও অংশগ্রহণ করলেও ভোটার টানার ক্ষেত্রে ভূমিকা ছিল খুবই সামান্য। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শুধু বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) এককভাবে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একবার ক্ষমতার ভাগিদার হয়েছিল। তাই এ তিনটি দলের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কমবেশি সমর্থক ও একনিষ্ঠ ভোটার রয়েছে। বাকি দলগুলোর কর্মী-সমর্থক ভোটার নির্দিষ্ট নেতা কেন্দ্রভিত্তিক। তাই দলগুলো ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতেও সমর্থ হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ২৯ দল মাত্র ১ থেকে ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আর ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি দল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, বাস্তবিক অর্থে দৃশ্যপটে এখন ভোটে মূল লড়াই হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, সেটি কাজে আসবে না যদি ভোটার টার্নআউট ভালো হয়।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটার বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ইসি বর্তমানে প্রার্থিতা আপিল নিষ্পত্তিতে ব্যস্ত। তাই ভোটারের অংশগ্রহণ নিয়ে আলাদা কোনো ক্যাম্পেইন এ মুহূর্তে তাদের নেই। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে ভোটের গাড়ি নামিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারের এজেন্ডায় মূলত গণভোট রয়েছে। অন্যদিকে ইসির ভরসা রাজনৈতিক দলগুলো। তারা মনে করে, দলগুলোই তাদের স্বার্থে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসবে। তাই এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটার টার্নআউট হবে।

বাংলাদেশের অতীত ১২টি নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভোটার ‘টার্নআউট’-এর ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি রাজনৈতিক দলগুলো। দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে এমন দলগুলোর যে কোনো একটি দল ভোটে না থাকলে ভোটের হার কমে যায়। তবে এবার পরিসংখ্যান ভিন্নও হতে পারে। যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই আওয়ামী লীগের, তাই তাদের একনিষ্ঠ কর্মীরা হয়তো ভোটদানে বিরত থাকতে পারেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই কিন্তু দলটির সমর্থক এ রকম কিছু ভোটার আগামীতে নিজেদের ব্যবসা, পরিবারের নিরাপত্তা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বড় একটি অংশের অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই ভোট কোনো একক দলের হবে না। আসনভিত্তিক অবস্থান বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা।

এরপরও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানেই সব দলের অংশগ্রহণ না। তবে সব মতের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। তাই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক না থাকলেও তাদের মতাদর্শের কেউ ভোটে দাঁড়ালে সেই সুযোগ রাখা দরকার ছিল। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (জাপা) ফ্যাসিবাদের দোসর তকমা দিয়ে ভোটে না রাখার জন্য কয়েকটি দল ইসিতে আপত্তি দিয়েছে। তারা কোর্টে রিটও করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির বিষয়ে বলা হয়েছেÑ দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি দলের মধ্যেÑ বিএনপি এবং জামায়াতের। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। তবে জাতীয় পার্টিকে ভোটে রাখা উচিত। সে ক্ষেত্রে ভোট আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। অতীতের নির্বাচনের চেয়ে এবার ভালো নির্বাচন হবে।

৫ আগস্টপরবর্তী দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা কয়েকটি দল মনে করে, জাতীয় পার্টি ভোটে থাকলে তাদের ওপর আওয়ামী লীগ ভর করতে পারে। তাই জাতীয় পার্টি ভোটে থাকলে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় যেতে পারে। তাই যেভাবেই হোক জাতীয় পার্টিকে ভোটের বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে। ইসি বা কোর্টের মাধ্যমে না হলেও দলটির প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে হলেও অনেক জায়গা থেকে নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা আসতে পারে।

এসব আশঙ্কা থেকে বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নেই, জাতীয় পার্টিকেও যদি চাপে রাখা যায়, তাহলে জুলাই আন্দোলনে বেনিফিশিয়ারিদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি হবে। বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে সমঝোতার মাধ্যমে ভোটের লড়াই হতে পারে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিকাংশ ছিল আওয়ামী লীগবিরোধী। তাই আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার নির্বাচন করে অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। তার মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার রয়েছে পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ জন, যা মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুঘটক হতে পারে। তাদের মধ্যে কিছু ভোটার রয়েছে, যারা এবারই প্রথম ভোট দিতে পারবেন। তাই তাদের আগ্রহও বেশি।

এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে আর একটি পরিসংখ্যান ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন। তার মধ্যে প্রবাসী ভোটার প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন, অভ্যন্তরীণ অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি মিলিয়ে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা মোট ভোটারের ১ দশমিক ২০ শতাংশ।

বাংলাদেশের সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮ শতাংশ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছিল ৩৩ শতাংশ ভোট। এর আগের নির্বাচনে এই দুটি জোটের ভোটের হার ছিল প্রায় সমান।

অর্থাৎ ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার-দলীয় জোট ৪০ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পায়। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪০ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট।

এর আগে জোট ছাড়া এককভাবে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ ও ১৯৯১ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের হার থেকে ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করতে দেখা গেছে। এর বাইরে বাকি ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির সমর্থনও ছিল গড়ে ১০ থেকে ১২ শতাংশের মতো। তবে এসব দলের এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সক্ষমতা ছিল না।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই তাদের ভোটে থাকার সুযোগ নেই। এ জন্য জাতীয় পার্টি ভোটে থাকলে আওয়ামী লীগের ভোটারদের পছন্দের তালিকা বাড়ত। সেটি থাকা উচিত।

শামীম শিকদার নামে ৪০-ঊর্ধ্ব একজন ভোটার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এবার নির্বাচনে ভোট দিতে যাব না। কারণ ভোটের ফল কী হবে তা অনেকটাই বোঝা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে দলগুলোর কার্যক্রমে। সেই একই ব্যবস্থা। তাই ভোটের দিন অহেতুক ঝুঁকি নেব না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট