1. bangalirbarta@gmail.com : বাঙ্গালীর বার্তা : বাঙ্গালীর বার্তা
  2. info@www.bangalirbarta.com : বাঙ্গালীর বার্তা :
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ‘সতর্ক বার্তা’ অবশেষে ৭ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পেলেন অপহৃত সেই ৬ কৃষক প্রিন্টিং প্রেসকে নির্বাচনি পোস্টার না ছাপার নির্দেশ ইসি’র শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৩০ রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট মেয়েকে লেখা শেষ বার্তা পাঠিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা ঢাকা-১২: তিন সাইফুলে বিভ্রান্ত ভোটাররা, কে হাসবে বিজয়ের হাসি! মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরি, মার্কিন-ইরান সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ও তারেক রহমানের সম্মতিতে এই হামলা: নাহিদ ইসলাম ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে তাহলে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ কি টিকবে?

জোটে থাকা না থাকায়, কার লাভ কার ক্ষতি

মাহফুজুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের আসন বণ্টন নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বাদ রেখেই গত বৃহস্পতিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। সে সময় বলা হয়, অবশিষ্ট আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা হয়েছে। এর একদিন পর, গত শুক্রবার বিকালে এককভাবে ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা তাদের দলের কল্যাণের কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে গতকাল জামায়াত থেকে বলা হয়েছে, এখনও তারা ইসলামী আন্দোলনকে জোটে পাবে, এমন প্রত্যাশায় আছে। যদিও দুই পক্ষের এক ছাতার নিচে আসার বিষয়টি এখন অনেকটাই কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন জেগেছে- এ দুই দলের দূরত্বে কার লাভ, কার ক্ষতি? তৃতীয় পক্ষেরই (অন্যান্য দলের) বা কতটা লাভ বা ক্ষতি হবে? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ, হিসাব-নিকাশ। কেউ কেউ এমনও মনে করছেন যে, ভোটের অঙ্কের হিসাব বিবেচনায় এটি খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করবে না।

জানা গেছে, ভোটের মাঠে জয়ী হতে ‘এক বাক্সনীতি’ নিয়ে ইসলামী দলগুলোকে এক করার চেষ্টা শুরু করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে ইসলামপন্থি দল যেমন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়। পরবর্তীকালে এতে যুক্ত হয় জামায়াতে ইসলামী। এরও পরে যুক্ত হয় এনসিপি। জামায়াত এ জোটে আসার পর আসন সমঝোতা এবং নতুন তিনটি দল নিয়ে আসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটে একবাক্স নীতিতে থাকা হয়নি তাদের। এদিকে, এরও আগে থেকেই ইসলামপন্থি তিনটি দল বিএনপি জোটে থেকে যায়। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (আনিসুল-হাওলাদার অংশ) অংশে অনিবন্ধিত কিছু ইসলামী দল রয়েছে। এককভাবেও কিছু অনিবন্ধিত দল রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একত্রে থাকলে ইসলামী দলগুলোর বাক্সে ভোট বাড়ত, আসনও বাড়ত। এখন তাদের এই বিভাজন এবং পক্ষে-বিপক্ষে বিষোদগার তৃতীয় পক্ষকে শক্তিশালী করে দেবে; বিএনপিকে সরাসরি সুবিধা দেবে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করতে ভূমিকা রাখবে। তাদের ভাষ্য, এমনিতেই আকিদাগত দিক বিবেচনায় জামায়াতবিরোধী কিছু সংগঠন ও দল দেশে সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও এককভাবে থাকা ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো জামায়াতের বিপরীতে ইসলামী দর্শন ও সমকালীন রাজনীতি বিষয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে ‘ফ্যাক্ট’ হয়ে উঠতে পারে।

আবার কেউবা মনে করছেন, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জামায়াতের পরই ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান। সারা দেশে দলটির ভোট ও সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে। জামায়াতের মোর্চা থেকে তাদের আলাদা হয়ে যাওয়া দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতি হতে পারে।

কার লাভ, কার ক্ষতি

জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন আলাদা হয়ে যাওয়ায় কার লাভ কার ক্ষতি হলো- এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, এ বিভাজনে সরাসরি লাভবান হচ্ছে বিএনপি, আর ক্ষতির মুখে পড়ছে জামায়াত। কারণ, ইসলামী দলগুলো সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে একটি সমন্বিত ভোটব্যাংক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন আলাদাভাবে প্রার্থী দেওয়ায় সেই ভোট ভাগ হয়ে যাবে। ফলে জোটগত শক্তি কমবে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ইসলামী দলগুলোর প্রভাব দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদের ভাষ্য ভিন্ন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ইসলামী আন্দোলন নিজস্ব অবস্থান থেকে নির্বাচন করলে সেটি জাতীয় নির্বাচনে বড় কোনো ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে- এমনটা মনে করার কারণ নেই। বরং দলটি বরাবরই একটি নির্দিষ্ট আদর্শিক অবস্থান থেকে রাজনীতি করে আসছে, যেখানে এককভাবে থাকা তাদের সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, ভোটের অঙ্কের দিক থেকে এই বিচ্ছেদের প্রভাব খুবই সীমিত, এক শতাংশেরও কম। এমনকি বিএনপি বা অন্য বড় রাজনৈতিক শক্তির জন্যও এতে উল্লেখযোগ্য লাভ বা ক্ষতির কারণ নেই। তবে রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রশ্নে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের মধ্যে বড় কোনো বিরোধ তৈরি হয়নি। সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তারা ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে পারে। আদর্শিক বা আকিদাগত পার্থক্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে নতুন নয় এবং এসব বিষয় রাতারাতি দূর হওয়ারও নয়।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগ করেন, সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি মার্জিনাল ঘটনা। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই।

জোট থেকে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য ক্ষতি হিসেবে দেখছে না ইসলামী আন্দোলন। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা আমাদের কল্যাণ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি এতে আমাদের অকল্যাণ দেখতাম, তা হলে এই পথে আসতাম না। বর্তমান সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য সর্বোত্তম, যোগ করেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের এই যুগ্ম সচিব আরও বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী ঐক্যে না থাকার কারণ হচ্ছে আমরা নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দলের নির্বাচনী ঐক্য থেকে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ায় ভোটে ‘বড় প্রভাব’ পড়বে না বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি মনে করেন, ইসলামী আন্দোলন চলে যাওয়ায় ঐক্যে এনসিপির আসন বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে দলটি। সে জন্য চেষ্টাও শুরু করেছে তারা। তবে তিনিও এখনও প্রত্যাশা করছেন, ইসলামী আন্দোলন ঐক্যে ফিরবে। এখনও আলোচনার দরজা খোলা আছে।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে গতকাল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোট বর্জনের সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করে শেষ সময় পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে। জামায়াত আমিরের নির্বাচনী সফর এবং দলের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠক শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ওনাদের (ইসলামী আন্দোলন) জন্য তো আমরা আসন রেখেছি, চেয়ারও রেখেছিলাম। বাক্স তো একটা এখনও আছে, এখনও সময় আছে। সেই সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের যে ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়ায় আছে, তার একটা লিয়াজোঁ কমিটি আছে। সেই লিয়াজোঁ কমিটি এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত। ওনারা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো বা তাদের প্রস্তাবনাগুলো শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে জানাবেন, এরপর সিদ্ধান্ত হবে।

কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং নিজেদের ব্যর্থতা

গতাকাল বিকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, পূর্বঘোষিত ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বের হয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। এটি বরং নিজেদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, শুরু থেকে যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না আসায় সমঝোতার ভিত্তিতে একই প্রক্রিয়ায় বাকি ৪৭ আসন বণ্টন হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘সমঝোতা হওয়া আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থী থাকবে, তিনি বাদে বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। ঐক্যবদ্ধভাবে সেটি প্রত্যাহার করা হবে। ১৯ জানুয়ারির আগে অন্য কোনো কিছুর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পরে তারা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ধরে নিয়েই ১০টি দল কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।’

ইসলামপন্থি দলগুলো ঠিক পথে আছে কিনা- এমন প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, আমাদের দল ঠিক পথেই আছে। সবার অনুভূতি এক হয় না। অন্যের অনুভূতিকে আমার দল শ্রদ্ধা জানায়।

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছিল, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইনের প্রচলন করবে না, এর ব্যাখ্যা কীভাবে দেবেন?- এমন প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের কথার মূল অর্থ হলো, যে প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দেশ চলছে, নির্বাচন হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে রাজনীতির ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় এক দফার মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে একদিনেই শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, সেটিই জামায়াত আমির বলেছেন। এই কথার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই।

ইসলামী আন্দোলন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কিনা, জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি দলগুলো। তাই খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

সূত্র: আমাদের সময় 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট