বাঙ্গালীর বার্তা: একের পর এক ধাপ পেরিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত হলো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা। এর মাধ্যমে ভোটের মাঠে বেজে উঠল বাঁশি, শুরু হলো লড়াই। অবশ্য আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২০০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছেন। তাই উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পর মোট প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আজ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে প্রচার, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন প্রার্থীরা। দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের উৎসব। এই নির্বাচনী উৎসবমুখরতার পাশাপাশি শঙ্কা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। এ জন্য অনেক প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে ইসির কাছে আবেদন করেছেন।

এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিল নিষ্পত্তি শেষে বৈধ প্রার্থী ছিলেন দুই হাজার ২৫৪ জন। তাদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে ৫০ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুটি জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ দুই জোটের বাইরে দলগতভাবে সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর বাইরে এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাদের মধ্যে কিছু প্রার্থী রয়েছেন যারা বিএনপির বিদ্রোহী। সংখ্যাগত দিক থেকে এবার সর্বাধিক ৫১টি রাজনৈতিক দল ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে। তবে অধিকাংশ দল জোটে যুক্ত হওয়ায় এবারের লড়াই দ্বিমুখী হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি জোটের সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াত জোটের। এরই মধ্যে ভোটের মাঠে এই দুই দলের নেতা ও প্রার্থীদের বিভিন্ন বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচার চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন আলাদা ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এবার নির্বাচন পরিচালনায় ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন।
পাবনা ১ ও ২ আসন ছাড়া দেশের অবশিষ্ট ২৯৮টি আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এ দুটি আসনের নতুন তফসিল অনুযায়ী সময় রয়েছে আগামী সোমবার পর্যন্ত। এদিকে গতকাল শেষ দিনে দলের সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাস্তবতা পর্যালোচনা করে ৫০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন ৩৫ জন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসন থেকে প্রত্যাহার করেছেন ১২ জন।
এবারের নির্বাচনে দুটি বড় রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোট এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট। এর বাইরে জাতীয় পার্টি (জাপা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫১টি নিবন্ধিত দল ভোটের মাঠে রয়েছে। সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবং ইসি কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এবার জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও জোটের শরিকরা নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করছেন। অনেকে আবার দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২৯২ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপিল করেও হেরে যান ৪ জন প্রার্থী। তাই এখন পর্যন্ত ধানের শীষে প্রতীকের বৈধ প্রার্থী সংখ্যা ২৮৮।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন ২১৫ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কায় ২৬৬ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৬ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন, যাদের প্রতীক আগামীকাল চূড়ান্ত হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ২৭ জন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কাস্তে প্রতীকে ২০ জন।
কোন জোটে কারা :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিজেপি, এনপিপি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (একাংশ)। অন্যদিকে জামায়াতের জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও এলডিপি।